Irrational drug use in Bangladesh
/

ওষুধের অযৌক্তিক ব্যবহার কিভাবে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে, কিই বা এর প্রতিকার — প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ

367 বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্য অসচেতন। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ গ্রহণ করা, অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স ফিলাপ না করা, ভুল সময়ে ওষুধ গ্রহণ করা, চিকিৎসকের নির্দেশিত মাত্রায় ওষুধ গ্রহণ না করে নিজের ইচ্ছামত মাত্রায় ওষুধ সেবন করা, অন্যের কথায় প্রণোদিত হয়ে ওষুধ গ্রহণ করা ইত্যাদির কারণে ওষুধের ভুল ব্যবহার বেড়েই চলছে।

ডাক্তারদের অল্প সময়ে অধিক রোগী দেখার অসুস্থ প্রতিযোগিতা, ওষুধের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান না থাকা, অস্পষ্ট ভাষায় প্রেসক্রিপশন লিখা, অধিকাংশ হাসপাতালগুলোতে ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট/ Clinical Pharmacist এবং হসপিটাল ফার্মাসিস্ট/ Hospital Pharmacist না থাকা, ফার্মেসিগুলোতে‌ গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট না থাকা ইত্যাদি ওষুধের ভুল ব্যবহার কে ত্বরান্বিত করছে। ফলস্বরূপ, মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দিন দিন ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে।

ওষুধের অযৌক্তিক বা ভুল ব্যবহার কমাতে হলে, মানুষকে তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে এবং ওষুধ গ্রহণের বিষয়ে সচেতন হতে হবে, ডাক্তারদের কে রোগীর ওষুধ গ্রহণের এবং রোগের ইতিহাস সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে স্পষ্ট ভাষায় ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে হবে, প্রত্যেকটা হাসপাতালে ইলেকট্রনিক প্রেস্ক্রিপশন সিস্টেম/ Electronic Prescription System চালু করতে হবে, ডিসপেনসার/ Dispenser কে সতর্কতার সাথে ওষুধ সরবরাহ করতে হবে, বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন‌ পদক্ষেপ নিতে হবে,‌ যেমন- বাংলাদেশের প্রত্যেকটা হাসপাতালে এবং ফার্মেসিতে দক্ষ, গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেওয়া, প্রত্যেকটা প্রাইভেট হাসপাতালে বেতনভুক্ত ডাক্তার নিয়োগ বাধ্যতামূলক করে দেওয়া, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে রোগীদের রোগের এবং ওষুধ গ্রহণের ইতিহাস সম্বলিত একটি কেন্দ্রীয় কম্পিউটারাইজড ডাটাবেজ সিস্টেম চালু করতে হবে।

যেসব কারণে ওষুধের ভুল ব্যবহার হচ্ছে

ডাক্তারের সাথে সম্পর্কিত কারণসমূহ-

  • ‌রোগ সম্পর্কে এবং ওই রোগের জন্য উপযুক্ত ওষুধ সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান না থাকা
  • ওষুধ ও ওষুধের ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতা
  • অভিজ্ঞতার অভাব
  • অল্প সময়ে অধিক রোগী দেখার প্রবণতা
  • প্রেসক্রিপশনে অস্পষ্টভাবে ওষুধের নাম ও ওষুধ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিকনির্দেশনা লেখা, ফলস্বরূপ ডিসপেনসার ওষুধের ভুল ব্যাখ্যা করতে পারে এবং রোগীকে ভুল ওষুধ সরবরাহ করতে পারে
  • ওষুধ কোম্পানির প্রণোদনা: ওষুধ কোম্পানির প্রণোদনার কারণে একজন ডাক্তার নিম্ন কার্যকরী ওষুধ রোগীকে প্রেসক্রাইব করতে পারে
  • ওষুধের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান না থাকা
  • প্রশিক্ষণের অভাব
  • রোগীর চাপে বাধ্য হয়ে ভুল ওষুধ প্রেসক্রাইব করা

ডিসপেনসার বা ওষুধ দোকানদারের সাথে সম্পর্কিত কারণসমূহ-

  • প্রেসক্রিপশনের ভুল ব্যাখ্যা

ডাক্তার যে ওষুধ এবং যে নির্দেশনা প্রেসক্রিপশনে লিখেছে, তা যদি অস্পষ্ট হয় অথবা ডিসপেনসার যদি ডাক্তারের হাতের লিখা বুঝতে না পারে, তাহলে ডিসপেন্সার রোগীকে ভুল ওষুধ দিবে এবং রোগী ভুল ওষুধ খাওয়া শুরু করবে।

  • ডিসপেনসার যদি স্টোরেজ থেকে ভুল ওষুধ সংগ্রহ করে
  • ওষুধ কখন গ্রহণ করতে হবে, দিনে কতবার গ্রহণ করতে হবে, খাবারের আগে নাকি পরে সেবন করতে হবে এ সম্পর্কে ভুলভাবে লেবেলিং করলে
  • লেবেলিং না করলে

ভুলে যাওয়া মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।‌ লেবেলিং না করা হলে, রোগী ভুল সময়ে ভুল ওষুধ গ্রহণ করতে পারে।

  • প্রেসক্রিপশন এর ওষুধ সমুহ সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে গ্রহণ করা সম্পর্কে রোগীকে বুঝিয়ে না বলা।
  • ওষুধের ভুল মাত্রা বাছাই করা
  • ওষুধের ভুল ডোসেজ ফর্ম বাছাই করা
  • ডিসপেনসার এর ওষুধ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা
  • ওষুধ গ্রহণ সম্পর্কে রোগীর সাথে বিশদভাবে এবং সাবলীল ভাবে কথা বলার সক্ষমতা না থাকা

রোগীর সাথে সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ/ Non-compliance

  • রোগী ভুল সময়ে ওষুধ গ্রহণ করলে
  • ডাক্তার কর্তৃক নির্দেশিত মাত্রায় ওষুধ গ্রহণ না করে ভুল মাত্রায় ওষুধ গ্রহণ করা
  • ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে যতদিন ওষুধ গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, এর আগে ওষুধ গ্রহণ বন্ধ করা
  • ওষুধ শেষ হয়ে গেলে পুনরায় প্রেসক্রিপশন রিফিল না করা
  • ডাক্তারের নির্দেশ মোতাবেক ওষুধ গ্রহণ না করা
  • ওষুধ সেবন করতে ভুলে যাওয়া
  • যে কারণে ওষুধ প্রেসক্রাইব করা হয়েছে, সে কারণ ছাড়া অন্য কারণে ওষুধ সেবন করা।
  • যে ওষুধ প্রেসক্রাইব করা হয় নাই, নিজের ইচ্ছামত সে ওষুধ গ্রহণ করা।
  • পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া/ Drug interactions রয়েছে এমন দুটি ওষুধ একসাথে সেবন করা। দুটি বিপরীত ধর্মী ওষুধ একসাথে খেলে একটি ওষুধ অন্য ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, ফলস্বরূপ, যে রোগের জন্য ওষুধ গ্রহণ করা হয়েছে তাতে কোনো প্রভাব পড়ে না।
  • চিকিৎসক অথবা ডিসপেনসারের কাছ থেকে ওষুধ সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে সেবন করা।
  • তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়ার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রায় ওষুধ সেবন করা।
  • কিছুদিন ওষুধ সেবন করার পর কিছুটা সুস্থতায় অনুভব করলে ওষুধ গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া।
  • অন্যের কথা শুনে ওষুধ সেবন করা। কিছু মানুষ রোগে আক্রান্ত হলে আশেপাশের ওই রোগে‌ আক্রান্ত মানুষদের কাছে পরামর্শের জন্য যায় এবং তারা যে ওষুধ গ্রহণ করে সে ওষুধ গ্রহণ করা শুরু করে দেয়। ফলস্বরূপ, রোগীর ভুল ওষুধ গ্রহণ করার সম্ভাবনা অনেক গুন বেড়ে যায়, কারণ, একই রোগে আক্রান্ত দুজন মানুষের ক্ষেত্রে সবসময় সমান ওষুধ প্রেসক্রাইব করা হয়‌ না।
  • পেশেন্ট কমপ্লায়েন্স — ধারণা, প্রয়োজনীয়তা ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় এর গুরুত্ব

‌ ওষুধের ভুল ব্যবহারের প্রভাব

রোগীর উপর প্রভাব:

  • রোগী প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবন করলে, রোগীর দেহে ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ- অতিরিক্ত নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি (NSAID) ওষুধ গ্রহণ করলে বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন-কিডনি ইঞ্জুরি, আলসার, পেট খারাপ হওয়া, বুকে জ্বালাপোড়া করা। অতিরিক্ত ইনসুলিন গ্রহণ করলে দেহের গ্লুকোজ লেভেল অনেক কমে যায়, যার ফলে হাইপোগ্লাইসেমিক শক (hypoglycemic shock) হয়, যেটা রোগীকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে।
  • রোগী প্রয়োজনের চেয়ে কম মাত্রায় ওষুধ গ্রহণ করলে চিকিৎসা কার্যকরী হবে না, যে রোগের কারণে ওষুধ গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে কোন উপকার হবে না। 
  • এন্টিবায়োটিক কোর্স (Antibiotic Course) ফিলাপ না করা হলে, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে।
  • চিকিৎসা কার্যকরী না হলে, রোগীকে পুনরায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে এবং রোগীর খরচ বেড়ে যাবে।
  • ওষুধের ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়াগুলোকে সমাধান করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যার ফলে রোগীর খরচ বেড়ে যাবে।

সমাজের উপর প্রভাব:

  • একটি ওষুধ আবিষ্কার হওয়া থেকে শুরু করে রোগীর হাতে আসা পর্যন্ত যে অর্থ, সময় ও পরিশ্রম ব্যয় হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে অপচয় হবে।

ডাক্তার ও ডিসপেনসারের উপর প্রভাব:

  • ডাক্তারের ভুল ওষুধ প্রেসক্রাইব করার কারণে অথবা ডিসপেনসার এর ভুল ওষুধ সরবরাহ করার কারণে, যদি রোগী মারাত্মক স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওষুধের ভুল ব্যবহার কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সমূহ

ওষুধের ভুল ব্যবহার কমানোর জন্য আমরা  নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে পারি-

ডাক্তারের সাথে সম্পর্কিত-

  • ডাক্তারকে স্পষ্ট ভাষায় প্রেসক্রিপশন লিখতে হবে।
  • পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রোগী দেখতে হবে।
  • রোগীর রোগ ও‌‌ ওষুধ গ্রহণের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে।
  • রোগীকে সঠিক সময়ে, সঠিক মাত্রায় ওষুধ গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করতে হবে।
  • রোগীকে সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় ওষুধ গ্রহণ না করার ভয়াবহতা এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পর্কিত-

  • বাংলাদেশ‌ সরকারকে প্রত্যেকটা হাসপাতালে ইলেকট্রনিক প্রেস্ক্রিপশন সিস্টেম চালু করা বাধ্যতামূলক করে দিতে হবে, যার ফলে অস্পষ্ট লেখার কারণে ওষুধের ভুল ব্যাখ্যা সম্পূর্ণভাবে দূর হয়ে যাবে।
  • প্রত্যেকটা প্রাইভেট হাসপাতালে বেতনভুক্ত ডাক্তার নিয়োগ দিতে হবে, এতে করে অল্প সময়ে অধিক রোগী দেখার প্রবণতা কমে যাবে যেমন- স্কয়ার হাসপাতালের ডাক্তাররা অধিক সময় নিয়ে রোগীর সমস্যা গুলো শুনেন, অতীতের ওষুধ গ্রহণের ইতিহাস সম্পর্কে‌ জেনে, রোগীর দেহের সঠিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন।
  • স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কে একটি কেন্দ্রীয়‌ কম্পিউটারাইজড ডাটাবেজ সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা করতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। ডাটাবেজে প্রতিটা রোগীর ইউনিক আইডি থাকবে এবং রোগীর সকল ধরনের ওষুধ গ্রহণের এবং রোগের ইতিহাস রেকর্ডেড থাকবে। এ সিস্টেম এর অধীনে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ফলস্বরূপ, রোগী বাংলাদেশের যে কোন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করুক না কেন রোগীর  ওষুধ গ্রহণের এবং রোগের ইতিহাস খুব সহজে ডাটাবেজ থেকে বের করা যাবে।
  • বাংলাদেশের প্রত্যেকটা হাসপাতালে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে।
  • বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ফার্মেসিতে এ গ্রেড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে।

রোগীর সাথে সম্পর্কিত-

  • রোগীকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে এবং ওষুধ গ্রহণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে
  • প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে
  • চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারো কথায় প্রণোদিত হয়ে ওষুধ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে
  • চিকিৎসক কর্তৃক নির্দেশিত মাত্রায় ওষুধ সেবন করতে হবে
  • প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সঠিক ওষুধের সঠিক‌ ডোসেজ ফর্ম, সঠিক সময়ে গ্রহণ করতে হবে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া যাবেনা অথবা নতুন ওষুধ যোগ করা যাবে না।
  • অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স ফিলাপ করতে হবে
  • যে ওষুধ খালি পেটে গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেটি খালি পেটে গ্রহণ করতে হবে এবং যে ওষুধ ভরা পেটে খাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে, সেটি ভরা পেটে সেবন করতে হবে।

ডিসপেনসার এর সাথে সম্পর্কিত-

  • রোগীর কাছ থেকে সঠিক প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে হবে
  • দেখতে একই রকম ওষুধ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে
  • নিশ্চিত হতে হবে যে, রোগী যে প্রেসক্রিপশনটি নিয়ে এসেছে, সে প্রেসক্রিপশনটি সঠিক ও সম্পূর্ণ।
  • দশমিকের আগে পরে শূন্য সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে
  • ওষুধ দোকানের ভিতর একটি সুসংগঠিত কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করতে হবে
  • পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ওষুধ সংরক্ষণ করতে হবে
  • রোগীকে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সঠিক ওষুধ,  সঠিক মাত্রায়, সঠিক ডোসেজ ফর্মে সরবরাহ করতে হবে
  • সঠিক পদ্ধতিতে ওষুধ গ্রহণ করা সম্পর্কে রোগীকে বুঝিয়ে বলতে হবে
  • রোগীর দৈনন্দিন রুটিনে ওষুধ খাওয়ার সময় গুলোকে এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যেন রোগী সহজে এবং সুবিধাজনকভাবে ওষুধ গ্রহণ করতে পারে, ফলস্বরূপ, ওষুধ গ্যাপ দেওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
  • যেসকল রোগী ওষুধ খেতে ভুলে যায়, তাদেরকে ব্লিস্টার প্যাক, ক্যালেন্ডার, ডোসেজ কাউন্টার সরবরাহ করতে হবে।
  • প্রতিটা ওষুধের প্যাকেজ অথবা কন্টেইনারের গায়ে লেবেলিং করতে হবে।
  • কখন কোন ওষুধ খেতে হবে, ওষুধটি দিনে কতবার খেতে হবে, খাবারের আগে খেতে হবে নাকি পরে খেতে হবে তা স্পষ্ট ভাবে লিখতে হবে
  • লিখার পর রোগীকে মৌখিকভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে
  • যেসব রোগী অশিক্ষিত, তাদের জন্য বিভিন্ন ছবি দিয়ে বুঝিয়ে দিতে হবে, কখন ওষুধ খেতে হবে, দিনে কতবার খেতে হবে, খাবারের আগে খেতে হবে নাকি পরে খেতে হবে সে সম্পর্কে।

আমি আবু বকর ছিদ্দিক, পড়াশুনা করছি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের ৫ম বর্ষে।

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ স্বাস্হ্য সচেতনতার অভাবে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী রোগের সম্মুখীন হচ্ছে। স্বাস্হ্য বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করা দেশের মানুষের স্বাস্হ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস। ভবিষ্যতে আমি একজন গবেষক হতে চাই।

একটি প্রত্যুত্তর করুন

Your email address will not be published.