Designer Drugs
/

ডিজাইনার ড্রাগস — বিকৃত শখে জীবন বিনাশ

65 বার পড়া হয়েছে

ডিজাইনার ড্রাগস কি?

ডিজাইনার ড্রাগ – Designer Drugs শব্দের উৎপত্তি ১৯৮০ এর দশকে ঘটে, যখন কিছু ল্যাব গোপনে বৈধ ওষুধে সামান্য রাসায়নিক পরিবর্তন করে অবৈধ পরিবর্তিত পদার্থ তৈরি করত। এই ‘বেসমেন্ট রসায়নবিদদের’ লক্ষ্য ছিল ডেমেরোল (Demerol) এবং ফেন্টানাইল (Fentanyl)-এর মতো ব্যথানাশক ওষুধের অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যানালগ তৈরি করা এবং উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করা। ‘ডিজাইনার ড্রাগ শব্দটি ফ্যাশন শিল্পের ডিজাইনার জিন্স শব্দের ব্যঙ্গাত্মকরূপে ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে এই শব্দটি ব্যথানাশক ওষুধের অ্যানালগ গুলির জন্য ব্যবহার করা হলেও, পরবর্তীতে এক্সট্যাসি (Ecstasy)  এবং মেথামফেটামিনের (Methamphetamine) মতো উদ্দীপকগুলি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এর অর্থ প্রসারিত করা হয়। সামাজিক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয়তার কারণে প্রায়শই এগুলিকে ‘ক্লাব ড্রাগস’  নামে অভিহিত করা হয়। 

‘ডিজাইনার ড্রাগ’ বা ‘মনের মত ওষুধ’ হলো এমন পদার্থ যা সাধারণভাবে ‘সাইকোঅ্যাকটিভ (Psychoactive)’ বা ‘সাইকেডেলিক (Psychedelic)’ নামে পরিচিত, এবং এগুলি হলুসিনেশন (অলীক কিছুর অস্তিতে বিশ্বাস) বৃদ্ধি করে। ১৯৭০ সালে, মার্কিন সরকার কর্তৃক পাস করা ‘The Controlled Substances Act (CSA)’ আইনের মাধ্যমে এই ওষুধগুলোকে পাঁচটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছিল, যা “তফসিল বা Schedule” নামে পরিচিত। এই আইনের অধীনে এই substance/ পদার্থগুলো উৎপাদন, আমদানি, দখল, ব্যবহার এবং বিতরণ নিয়ন্ত্রিত হয়। কার্যত, এই আইন ডিজাইনার ড্রাগসগুলো কতটা উপযোগী, নিরাপদ, এবং আসক্তি ঘটায় তা নিম্নরূপে সংজ্ঞায়িত করে:

Schedule I Controlled Substances (তফসিল I) — ওষুধ বা অন্যান্য substances/পদার্থ যা (১) অপব্যবহারের উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে, (২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসায় বর্তমানে স্বীকৃত নয়, এবং (৩) চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য গৃহীত পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তার অভাব। উদাহরণ: এক্সট্যাসি (Ecstasy), হেরোইন (Heroin), মারিজুয়ানা (Marijuana), এবং হ্যালুসিনোজেন পেয়োট (Hallucinogenic poyet), মেসকালাইন (Mescaline), সাইলোসাইবিন (Psilocybin) এবং এলএসডি (LSD)। 

Schedule II Controlled Substances (তফসিল II) — ওষুধ বা অন্যান্য substances/পদার্থ যা (১) অপব্যবহারের উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে, (২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে চিকিৎসায় গৃহীত বা কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চিকিৎসা ব্যবহার স্বীকৃত, এবং (৩) অপব্যবহারের ফলে গুরুতর মানসিক এবং শারীরিক নির্ভরতা উত্থিত হতে পারে। উদাহরণ: কোকেন (Cocaine), পিসিপি (PCP), মরফিন (Morphine), ফেন্টানাইল (Fentanyl) এবং মেপেরিডিন (Meperidine), কোডাইন (Codeine), অ্যামফিটামিন (Amphetamine) এবং মেথামফেটামিন (Methamphetamine), মিথাইলফেনিডেট (Methylphenidate)।

Schedule III Controlled Substances (তফসিল III) — ওষুধ বা অন্যান্য substances/পদার্থ যা (১) অপব্যবহারের সম্ভাবনা তফসিল I ও তফসিল II এ অন্তর্ভুক্ত ওষুধ বা অন্যান্য পদার্থের চেয়ে কম, (২) বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ব্যবহার স্বীকৃত, এবং (৩) অপব্যবহার নিয়ন্ত্রিত, স্বল্প শারীরিক নির্ভরতা বা উচ্চ মানসিক নির্ভরতা সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণ: কেটামিন (Ketamine), অ্যানাবলিক স্টেরয়েড (Anabolic Steroid), কিছু বারবিটুরেটস (Barbiturates)।

Schedule IV Controlled Substances (তফসিল IV) — ওষুধ বা অন্যান্য substances/পদার্থ  যা (১) তফসিল III এর পদার্থগুলির তুলনায় অপব্যবহারের সম্ভাবনা কম, (২) বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ব্যবহার স্বীকৃত, এবং (৩) অপব্যবহার তফসিল III এর পদার্থ অপেক্ষা সীমিত শারীরিক নির্ভরতা বা মানসিক নির্ভরতা সৃষ্টি  করতে পারে। উদাহরণ: ভ্যালিয়াম (Valium®), জেন্যাক্স (Xanax®), কিছু বারবিটুরেটস।

Schedule V Controlled Substances (তফসিল V) — ওষুধ বা অন্যান্য substances/পদার্থ  যা (১) তফসিল IV এর পদার্থগুলির তুলনায় অপব্যবহারের সম্ভাবনা কম, (২) বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ব্যবহার স্বীকৃত, এবং (৩) অপব্যবহার তফসিল IV এর ওষুধ বা অন্যান্য পদার্থ অপেক্ষা সীমিত শারীরিক বা মানসিক নির্ভরতা সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণ: কোডাইন কাশি সিরাপ (codeine cough syrup)।

অপব্যবহারে তফসিল I ওষুধগুলি সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং শক্তভাবে নিয়ন্ত্রন হয়, যেখানে তফসিল V ওষুধগুলি অপেক্ষাকৃত কম নিয়ন্ত্রিত। উল্লেখ্য যে, কিছু পরিস্থিতিতে, কিছু ওষুধ একাধিক তফসিলের  অধীনে শ্রেণীবদ্ধ করা হতে পারে।  

মেথামফেটামিন (Methamphetamine) 

মেথামফেটামিন, একটি শক্তিশালী উদ্দীপক, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এমফিটামিনের অ্যানালগ হিসাবে ১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে উদ্ভূত হয়। ১৯৪০-এর দশকে ‘মেথেড্রিন (Methedrine)’ হিসাবে বাজারজাত করার পরে, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্যদের মধ্যে ক্লান্তি এবং ক্ষুধা মোকাবেলায় ব্যবহৃত হয়েছিল, যা তাদের আসক্তির দিকে পরিচালিত করেছিল। মেথামফেটামিন ১৯৫০-এর দশকে কলেজ ছাত্র, ক্রীড়াবিদ এবং ট্রাক চালকদের মধ্যে তার শক্তি বৃদ্ধিকারী প্রভাবের জন্য ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এর বিনোদনমূলক ব্যবহার ১৯৬০-এর দশকে শক্তিশালী ইনজেকশনযোগ্য ডোজ আবিষ্কারের সাথে বেড়েছে। The US Controlled Substances Act (CSA) আইনে এটি একটি তফসিল II ড্রাগ হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

মেথামফেটামাইন ব্যবহার, অপব্যবহার এবং আসক্তি

মেথামফেটামিনকে প্রায়ই ‘আইস‘ বা ‘গ্লাস’ হিসাবে উল্লেখ করা হয় কারন এটি প্রাথমিকভাবে সাদা বা পরিষ্কার স্ফটিকের (crystal) মতো দেখতে, কখনও বাদামী হতে পারে। প্রক্রিয়ারণের সময় মেথ পাউডারে এবং স্ফটিকে সীসার মতো বিষাক্ত পদার্থ মিশে থাকতে পারে। মেথামফেটামিন রঙিন বড়ি বা ট্যাবলেট হিসাবেও পাওয়া যায়। মেথামফেটামাইন সাধারণত সিউডোএফেড্রিন (Pseudoephedrine) থেকে তৈরি করা হয় হয়, যা সাধারণত ওভার-দ্য-কাউন্টার (Over-the-Counter) ঠান্ডার ওষুধ হিসেবে পাওয়া যায়। 

বারবার ব্যবহারে ড্রাগটি সহনশীল হয়ে যায় ফলে উচ্চ মাত্রার প্রয়োজন হয় এবং মনোরোগ, হ্যালুসিনেশন, প্যারানিয়া (paranoia) সৃষ্টি করতে পারে। ব্যবহারকারীর ত্বকের সংক্রমণ (Crank Bug), অনিদ্রা, মেজাজের পরিবর্তন, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, ওজন হ্রাস, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং পুনরাবৃত্তিমূলক কর্মের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

মেথামফেটামিন ক্লাব (clubs) এবং রেভসে (raves) কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ‘ক্লাব ড্রাগ’ হিসেবে পরিচিত। মেথামফেটামিন ব্যবহার বন্ধ হওয়ার পরেও আসক্তি থাকতে পারে। মেথামফেটামিন ইনজেকশনের সুই ভাগ করে নেওয়ার কারণে এইচআইভি (HIV) সংক্রমণ এবং এইডসের (AIDS) ঝুঁকি বেড়ে যায়। ব্যবহার পরিত্যাগ করলে বিষন্নতা, উদ্বেগ, ক্লান্তি, প্যারানিয়া, বিরক্তি, আগ্রাসন, লালসার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়। গর্ভাবস্থায় মেথামফেটামিনের আসক্তির কারণে নবজাতকের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকৃতি, নবজাতকের আচরণগত সমস্যা, অকাল প্রসব এবং গর্ভকালীন জটিলতা দেখা দেয়।

মেথামফেটামাইন এবং অ্যাডলফ হিটলার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, মেথামফেটামিন অ্যাডলফ হিটলার (Adolf Hitler) সহ তার সৈন্যরা ব্যবহার করেছিল। মেথামফেটামিনের উপর হিটলারের নির্ভরতার ফলে পারকিনসন্স রোগের মতো হাতের কাঁপুনি এবং নড়াচড়ার সমস্যা দেখা দেয়, যা মেথামফেটামিন ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের অবক্ষয়ের সাথে সম্ভাব্যভাবে যুক্ত। মেথামফেটামিনকে তার পরিবর্তিত ব্যক্তিত্ব, প্যারানয়া, সহানুভূতির অভাব, এবং আগ্রাসনের জন্য দায়ী করা হয়। সম্ভাব্যভাবে মেথামফেটামিন তার আচরণকে প্রভাবিত করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিপথকে আকৃতি দেয়। 

এক্সট্যাসি (Ecstasy)

এক্সট্যাসি, বৈজ্ঞানিকভাবে 3,4- মিথিলেনডিওক্সি মেথামফেটামিন (3,4-methylenedioxy methamphetamine or MDMA) নামে পরিচিত, ১৯১২ সালে জার্মানির রসায়নবিদরা ক্ষুধা নিবারণের জন্য সংশ্লেষিত করেছিলেন। এই পদার্থগুলি অ্যামফিটামাইনের মতো, প্রথমদিকে ‘ডিজাইনার ড্রাগস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ১৯১৪ সালে Merck কর্তৃক পেটেন্ট করা হলেও, প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ওষুধের গবেষণা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বায়োকেমিস্ট আলেকজান্ডার শুলগিন MDMA এর থেরাপিউটিক সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন, ফলে গবেষণা আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত হয়। তবে, আসক্তির উদ্বেগের কারণে এটি Schedule I ড্রাগ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ হয়ে নিষিদ্ধ হয়।

এক্সট্যাসি ব্যবহার, অপব্যবহার এবং আসক্তি

এক্সট্যাসি সাধারণত বিভিন্ন আকার এবং রঙের ছোট বড়ি হিসাবে বিক্রি হয়। এক্সট্যাসি প্রায়শই হেরোইন এবং অন্যান্য মাদকের সাথে সংমিশ্রণে অপব্যবহার করা হয়। এক্সট্যাসি উদ্দীপক এবং হ্যালুসিনোজেনিক। এটি হালকা উচ্ছ্বাস তৈরি  করে এবং রঙ, শব্দ এবং স্পর্শের উপলব্ধিকে তীব্র করে  তোলে। তবে, ওষুধটি বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব যেমন বিভ্রান্তি, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং প্যারানইয়া সৃষ্টি করতে পারে। এক্সট্যাসি শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকহারে বৃদ্ধি করতে পারে (Malignant Hyperthermia)  ও ডিহাইড্রেশন (Dehydration) ঘটাতে পারে। এছাড়াও হাইপোনাট্রেমিয়া (Hyponatraemia), কিডনি ব্যর্থতা এবং মস্তিষ্ক ফুলে যাওয়ার মত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ওষুধটি হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ বাড়ায়, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়। শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে চোয়াল চেপে যাওয়া, পেশী টান, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, কাঁপুনি, উদ্বেগ এবং ঝাপসা দৃষ্টি।

হারবাল এক্সট্যাসি

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ‘হার্বাল এক্সট্যাসি’ নামক একটি নতুন ওষুধ এক্সট্যাসির প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ বিকল্প হিসাবে প্রচারিত হচ্ছে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। হারবাল এক্সট্যাসি খাদ্য ও ওষুধের দোকানে সম্পূরক স্বাস্থ্যপণ্য হিসেবে বিক্রি হয়, প্রধানত কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বাজারজাত করা হয়। এটি প্রাকৃতিক এবং সিন্থেটিক উপাদানের মিশ্রণ, তবে নিয়মিত ব্যবহারে হৃদস্পন্দন, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, সাইকোসিস (Psychosis) এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (Food and Drug Administration, FDA)  এটিকে বিপজ্জনক ক্যাফেইন পণ্য হিসেবে চিহ্নিত  করেছে।

হারবাল এক্সট্যাসি আসলে একটি এফেড্রিন এবং ক্যাফেইন ধারণকারী উদ্দীপক ছাড়া আর কিছুই নয়। নির্মাতাদের দাবি পণ্যটি প্রাকৃতিক হওয়ার কারণে এতে যে এফিড্রিন রয়েছে তা চীনা ভেষজ এফেড্রা (Ephedra, এছাড়াও বলা হয় “ma huang”) বা অন্য ইফেড্রিন নির্যাস থেকে আসে। তবে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) সতর্কতাসূচক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে যে হারবাল এক্সট্যাসি অন্যান্য সিন্থেটিক ইফেড্রিনের মতোই বিপজ্জনক ক্যাফেইন পণ্য এবং ব্যবহারের ফলে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, সাইকোসিস এবং মৃত্যু হতে পারে। 

ধর্ষণের ওষুধ বা ডেট রেপ ড্রাগ (Date Rape Drug) হিসাবে এক্সটেসি

এক্সট্যাসি সাধারণত ডেট রেপ ড্রাগ হিসাবে ব্যবহৃত হয় না। এক্সট্যাসি পুরুষ ব্যবহারকারীকে যৌন উত্তেজনা অর্জনে অক্ষম করে তোলে। ফলে  অনেক  ব্যবহারকারী এক্সট্যাসি ও সিল্ডেনাফিল (একটি ওষুধ যা পুরুষদের ইরেকশন অর্জনে সহায়তা করে) সংমিশ্রণ করে গ্রহণ করে যাতে তারা এক্সট্যাসি আসক্ত থাকাকালীন যৌনভাবে কার্যকরী থাকতে পারে। এই সংমিশ্রণটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যবহারে হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। প্রয়োজনীয় সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও এক্সট্যাসি এখনও প্রায়ই ডেট রেপ ড্রাগ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

ড্রাগের অপব্যবহার থেকে দূরে থাকুন – সুন্দর পরিবার, সমাজ ও প্রোডাক্টিভ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখুন। এইসব ড্রাগের অপব্যবহারে জীবন নাশের সর্বোচ্চ ঝুঁকি থাকে এবং আইনি জটিলতায় জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সঠিক, বৈধ, সুশৃঙ্খল ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সুন্দর জীবন গড়ুন এবং অন্যকে উৎসাহিত করুন।

সম্পাদক, স্বাস্থ্য দর্পণ

জিএইচবি (GHB)

গামা হাইড্রোক্সিবুটাইরেট (Gamma hydroxybutyrate) একটি শক্তিশালী প্রশমক (relaxant) এবং সিএনএস ডিপ্রেসেন্ট (CNS depressant) হিসেবে প্রথম ১৯২০ এর দশকে সংশ্লেষিত (synthesis) হয়েছিল। ১৯৮০-এর দশকে ফুড সাপ্লিমেন্ট কোম্পানিগুলো বডি-বিল্ডারদের পেশী বৃদ্ধি এবং চর্বি হ্রাসের উদ্দেশ্যে GHB বাজারজাত করত। এফডিএ (US FDA) ১৯৯০ সালে এটিকে অনিরাপদ ঘোষণা করে এবং ২০০০ সালে এফডিএ (FDA)  এটিকে তফসিল I এবং III নিয়ন্ত্রিত সাবস্টান্স হিসাবে তালিকাভুক্ত করে।

GHB নারকোলেপসির নিরাময়কারী বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও, এটি অপব্যবহার করা হয়। তাই গবেষকরা চিকিৎসায় এর সম্ভাব্য ব্যবহারের জন্য নিরাপদ বিকল্প সংশ্লেষণের চেষ্টা করেন। এটি ডেট রেপ ড্রাগ হিসাবেও অপব্যবহৃত হয়। জিএইচবি ব্যবহারের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সমূহের মধ্যে উদ্বেগ, অনিদ্রা, প্রলাপ এবং হ্যালুসিনেশন, পেশী ক্র্যাম্পিং এবং টাকাইকার্ডিয়া (অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত হৃদস্পন্দন)  উল্লেখযোগ্য। 

রোহিপনোল (Rohypnol)

রোহিপনোল একটি বেন্জোডিয়াজেপাইন (Benzodiazepine) ড্রাগ, যা মূলত হফম্যান-লা রোচে দ্বারা ১৯৬৩ সালে অনিদ্রা (insomnia) এবং উদ্বেগের (anxiety) চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বিভিন্ন দেশে অনিদ্রা এবং প্রি-সার্জারির জন্য এটির বৈধ ব্যবহার হওয়া সত্ত্বেও, এর অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এর ব্যবহার এখনো জাচাই-বাছাই করা হয়। ডেট রেপ ড্রাগ হিসেবে যৌন নিপীড়নে এর অপব্যবহার রোধ করার জন্য ১৯৯৬ সালের মাদক-প্ররোচিত ধর্ষণ প্রতিরোধ ও শাস্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। প্রায়শই, এর দ্বারা সৃষ্ট গভীর স্মৃতিভ্রংশের কারনে নির্যাতিতা ধর্ষণের ঘটনা মনে করতে পারে না এবং এর ফলে অভিযোগেও বিলম্ব ঘটে। রোহিপনোল Schedule I তালিকাভুক্ত ওষুধ। 

রোহিপনোল ১-২ মিলিগ্রাম ডোজের ড্রাগ যা ‘Roche’ লেবেলে ছোট সাদা বড়ি আকারে পাওয়া যেত। রোহিপনোল জড়িত ক্রমবর্ধমান ধর্ষণের ঘটনাগুলির কারণে, প্রস্তুতকারক হফম্যান-লা রোচে (Hoffman-La Roche) ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে বড়ির আকার এবং রঙ পরিবর্তন করে এটিকে “৫৪২” চিহ্নিত একটি সবুজ ডিম্বাকৃতির ট্যাবলেটে রূপান্তরিত করে। এতে এমন একটি রঞ্জক যোগ করা হয় যেন এটির সংমিশ্রণে পাণিয় নীল বা সবুজ রং ধারণ করে। এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল অপব্যবহার মোকাবেলা করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

রোহিপনোল ব্যবহারকারীরা তন্দ্রা, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি এবং সম্ভাব্য অক্ষমতা অনুভব করতে পারে। রোহিপনোলের প্রভাবে পেটে অসুস্থতা, নিম্ন রক্তচাপ, পেশী শিথিলতা, সমন্বয়হীনতা এবং প্রস্রাবের সমস্যা সহ নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। অ্যালকোহল সঙ্গে রোহিপনোল সংমিশ্রণ মানসিক এবং শারীরিক সমস্যাকে আরো তীব্র করে তোলে।

কেটামাইন (Ketamine)

পার্ক-ডেভিস ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ১৯৬০-এর দশকে ফেনসাইক্লিডিন (Phencyclidine) চেতনানাশক অ্যানালগ হিসাবে কেটামাইন সংশ্লেষিত করে। ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে এটি “কেটালার” নামে পরিচিতি পায়, যা অস্ত্রোপচারের সময় শক্তিশালী সাইকেডেলিক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কেটামাইনের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেগুলো এটিকে একটি ডেট রেপ ড্রাগ হিসেবে কুখ্যাত করে তুলেছে । ১৯৯৫ সালে ইউএস ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (DEA) এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে তালিকাভুক্ত করে এবং ১৯৯৯ সালে US DEA এবং US FDA কেটামিনকে তফসিল III নিয়ন্ত্রিত পদার্থ হিসাবে তালিকাভুক্ত করে।

কেটামাইন তরল, বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং স্বাদহীন। এটি স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বিষণ্নতা, বিভ্রান্তি এবং সহিংসতার মতো শক্তিশালী পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কেটামাইন শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃদস্পন্দন হ্রাস, বমি, খিঁচুনি, এমনকি  গুরুতর ব্যবহারকারীকে ক্ষেত্রে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে।  

কেটামাইন কোকেন, মারিজুয়ানা, অ্যালকোহল এবং এক্সট্যাসির মতো অন্যান্য পদার্থের সাথে সংমিশ্রিত হলে ওভারডোজের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। যদিও উৎসুক ব্যবহারকারী প্রাথমিকভাবে বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করে, তবে বারবার ব্যবহারের ফলে এটি ব্যবহারকারীর আসক্তি তৈরি করে। দীর্ঘস্থায়ী কেটামাইন ব্যবহার শারীরিক এবং মানসিক নির্ভরতা তৈরি করতে পারে, গ্রহণ বন্ধ করে দিলে প্রত্যাহারের লক্ষণ দেখা দেয়। অন্যান্য ডিজাইনার এবং ক্লাব ওষুধের মতো, কেটামাইন আসক্তির জন্য এখনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, যদিও এর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এবং অপব্যবহারের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

ট্রানকুইলাইজার ডার্টস হিসেবে কেটামাইন ব্যবহার 

কেটামাইনের ব্যথা ও চলন শক্তি রোধের ক্ষমতার জন্য এটি ট্রানকুইলাইজার ডার্ট ড্রাগ হিসেবে সুপরিচিতি। পশু চিকিৎসায় বা গবেষণায় বড় প্রাণী অসাড় করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। ব্লো-গান, রাইফেল বা অনুরূপ পদ্ধতিতে একটি ডার্ট বা কেটামাইন সিরিঞ্জ দূর থেকে চালনা করে অশান্ত ও হিস্র প্রানী অসাড় করা যায়। কেটামাইন ডার্ট চিড়িয়াখানা ও বন্য প্রাণী উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়। যদিও কেটামাইন পশুর পেশী অসাড় করতে সক্ষম, তবে এটি শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করেনা। এছাড়াও মানুষের মত, পশুর শরীরেও এটি খুব দ্রুত বিপাক হয় এবং এক ঘন্টার মধ্যে এর প্রভাব বন্ধ হয়ে যায় । 

ব্যথানাশক অ্যানালগ (Painkiller Analogue)

দীর্ঘস্থায়ী এবং গুরুতর ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন এবং প্যারাসিটামল -এর মতো ওভার-দ্য-কাউন্টার (over-the-counter) ওষুধগুলি ছাড়াও মরফিন (Morphine), কোডেইন (Codeine), হাইড্রোকোডোন/অ্যাসিটামিনোফেন (Hydrocodone/acetaminophen), অক্সিকোডোন (Oxycodone), পেথিডিন (Pethidine) এবং হাইড্রোমরফোন (Hydromorphone) নারকোটিক ব্যথানাশক ওষুধগুলি অস্ত্রোপচারে চেতনানাশক ও ব্যথা উপশমকারী হিসাবে ব্যবহারিত হয়। আফিম থেকে  উদ্ভূত বলে, এগুলিকে ‘অফিয়েট’ বা ‘অপিওড’ ড্রাগও বলা হয়। যদিও এগুলির মূল উৎস আফিম, তবে রসায়নিক বিজ্ঞানীরা ১৯৭০-এর শেষে এবং ১৯৮০-এর শুরুতে অবৈধভাবে ফেন্টানাইল এবং মেপেরিডিন এর মতো ওপিয়েট ব্যথানাশক অ্যানালগগুলি তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন, যার মাধ্যমেই মূলত ডিজাইনার ওষুধের উত্থান শুরু হয়।

ফেন্টানাইল এবং এর সদৃশ-ওষুধ সমূহ (Fentanyl and it’s analogue) 

ফেন্টানাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৪ সালে জ্যানসেন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি দ্বারা উন্মুক্ত হয় এবং বাণিজ্যিকভাবে “সাবলাইমেজ” (Sublimaze) নামে প্রচারিত হয়। এটি মূলত ব্যথানাশক এবং চেতনানাশক হিসেবে তৈরি হয়েছিল, যা মরফিনের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এটি প্রাথমিকভাবে সার্জারি, প্রসব, ক্যান্সার চিকিৎসা, এবং ট্রমা সংক্রান্ত আঘাতের জন্য ব্যবহৃত হয়। ১৯৭০-এর শেষ দশক থেকে ১৯৮০-এর দশকে, ফেন্টানাইলের একটি অ্যানালগ হেরোইনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা ‘আলফা-মিথাইল-ফেন্টানাইল (Alpha-methyl-fentanyl)’ বা ‘চায়না হোয়াইট (China White)’ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে, অন্যান্য ফেন্টানাইল অ্যানালগ যেমন 3-মিথাইল-ফেন্টানাইল (3-methylfentanyl) হেরোইন ব্যবহারকারীদের টিস্যুতে পাওয়া যায়, যা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে সামান্য ডোজেও ১৫০ জনের বেশি  মানুষের মৃত্যু  ঘটাতে  সক্ষম। ব্যবহারকারীরা এই অ্যানালগগুলি ব্যবহার করে প্রাথমিক অবস্থায় উচ্ছ্বাস অনুভব করে এবং এরপর ঘুম, ব্যথানাশক, এবং আন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনুভব করে। এই অ্যানালগগুলি মিউ ওপিওড (Mu Opioid) রিসেপ্টরগুলির উপর কাজ করে এবং নিউরনের ব্যথা সংকেত সংক্রমণকে বাধা দেয়, যার ফলে ব্যথা উপশম হয়। 

ফেন্টানাইলের পর, জ্যানসেন এবং অন্যান্য কিছু ফার্মা সিউটিক্যাল কোম্পানি কিছু বৈধ ফেন্টানাইল অ্যানালগ উৎপাদন শুরু করে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

আলফেনটানিল (Alfentanil)— এটি মরফিনের তুলনায় ২০-৩০ গুণ বেশি শক্তিশালী, এবং ডেন্টাল, ডায়াগনস্টিক এবং অন্যান্য ছোট অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয় ।

সুফেন্টানিল (Sufentanil)— এটি মরফিনের চেয়ে ২০০০-৪০০০ গুণ বেশি শক্তিশালী এবং হার্ট সার্জারি এবং প্রসবের জন্য ব্যবহৃত হয়।

কারফেন্টানিল (Carfentanil)— এটি মরফিনের চেয়ে ১০,০০০ গুণ বেশি শক্তিশালী এবং প্রায়শই পশু চিকিত্সক এবং বন্য প্রাণী গবেষকদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়।

লোফেন্টানিল (Lofentanil)— আরেকটি অত্যন্ত শক্তিশালী ফেন্টানাইল অ্যানালগ যা মরফিনের চেয়ে ৬,০০০ গুণ বেশি শক্তিশালী, তাই এটি শুধুমাত্র দীর্ঘায়িত অস্ত্রোপচার পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 

মেপেরিডিন এবং এর সদৃশ-ওষুধ সমূহ (Meperidine and it’s analogues)

মেপেরিডিন ১৯৩০-এর দশকে মরফিনের একটি বিকল্প ব্যথা-উপশমকারী হিসাবে বাজারে উন্মুক্ত হয়েছিল, যা ছিল মরফিনের চেয়ে কম শক্তিশালী। পরবর্তীতে, হেরোইন আসক্তদের জন্য আরও শক্তিশালী বিকল্প সংস্করণ  তৈরির লক্ষে অবৈধভাবে মেপেরিডিনের অ্যানালগ এমপিপিপি বা 1- মিথাইল- 4- ফিনাইল প্রোপিয়নক্সিপিপেরিডিন (MPPP or 1-methyl-4-phenyl-propionoxypiperidine) তৈরি করা হয়েছিল। MPPP-কে কখনও কখনও ‘নতুন হেরোইন’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়।  মেপেরিডিনের অন্য একটি বিষাক্ত শক্তিশালী অ্যানালগ তৈরি হয়েছিল দুর্ঘটনাবশত এক কলেজ ছাত্রের মাধ্যমে। সেই ছাত্র তার নিজের ব্যবহারের জন্য কয়েক মাস ধরে সফলভাবে এমপিপিপি তৈরি করতে থাকে। এমন এক সংশ্লেষণের সময় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সে প্রক্রিয়ায় একটি বা  দুটি ধাপ এড়িয়ে  যায়। পরে যখন সে এমপিপিপির এই সর্বশেষ ব্যাচ নিজেকে ইনজেকশন দেয়,  তখন তার পুরো বাহু জ্বলতে শুরু করে। কয়েকদিনের মধ্যেই তার হাত-পা সম্পূর্ণরূপে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়, এবং সে নড়াচড়া করতে বা কথা বলতে  অক্ষম হয়ে পড়ে। তার বাবা-মা তাকে বেশ কয়েকজন সাইকিয়াট্রিস্ট এবং নিউরোলজিস্টের কাছে নিয়ে যান যারা অবশেষে তাকে পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন। মূলত ওই কলেজ  ছাত্রের অসাবধানতাবশত এমপিপিপি সংশ্লেষিত করার সময় কিছু অতিরিক্ত বিষাক্ত উপ-পণ্য 1-মিথাইল-4-ফিনাইল-1,2,3,6-টেট্রাহাইড্রোপাইরিডিন বা এমপিটিপি (1-methyl-4-phenyl 1,2,3,6- tetrahydropyridine or MPTP) তৈরি  হয়েছিল। এটি মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং পারকিনসন রোগের লক্ষণগুলি অনুকরণ করতে পারে। 

পারকিনসন রোগ

পারকিনসন্স রোগ হলো মস্তিষ্কের একটি বিধ্বংসী ব্যাধি। এই রোগ পেশী দৃঢ়তা, মন্থরতা, হাত ও পায়ের নড়াচড়ার অথবা হাঁটা সমস্যা দ্বারা চিহ্নিত হয়। এই রোগ সাধারণত ৬৫ বছরের বেশি বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়, তবে ছোটদেরও এটি ঘটতে পারে। পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত উল্লেখযোগ্য যশস্বী ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বক্সার মোহাম্মদ আলী এবং অভিনেতা মাইকেল জে. ফক্স। এই রোগের কারণ এখনও অজানা, কিন্তু গবেষকরা আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কে কিছু নিউরোট্রান্সমিটার চিহ্নিত করেছেন। ধারণা করা হয়, মস্তিষ্কের সাবস্ট্যান্টিয়া নিগ্রা (আক্ষরিক অর্থে, “কালোপদার্থ”) নামে একটি অঞ্চলে ডোপামিনের অভাবের ফলে  এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। যখন সাবস্ট্যান্টিয়া নিগ্রার (Substantia nigra) নিউরন মারা যায়, তখন রোগী পেশী নড়াচড়া, হাঁটা ইত্যাদির উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। হেরোইন ব্যবহারকারীদের মস্তিষ্কে যখন এমপিটিপি (MPTP) প্রবেশ করে, তখন এটি MPP+তে রূপান্তরিত হয়, যা নিউরনের জন্য খুবই বিষাক্ত। গবেষকরা পারকিন্সনের প্রতিকার তৈরি করার আশায় প্রাণীদের মধ্যে এমপিটিপি ব্যবহার করছেন এবং পারকিনসন্স রোগের কারণ উদঘাটন করার চেষ্টা করছেন।

নোটঃ প্রবন্ধটি এম. ফস্টার অলিভ রচিত চেলসি হাউস পাব থেকে ২০০৫ সালে প্রকাশিত ড্রাগস্ দ্য স্ট্রেইট ফ্যাক্টস্ সিরিজের ডিজাইনার ড্রাগস বইটি অবলম্বনে সংকলিত।

আমি মহিমা খানম, বর্তমানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স অব র্ফার্মাসিতে অধ্যয়নরত আছি। আমি বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যই অমূল্য সম্পদ। তাই, আমাদের সকলের উচিত স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। আর এই লক্ষ্যে জনসাধারণের কাছে স্বাস্থ্য সম্পর্ক্তিত সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমি বিভিন্ন স্বাস্থ্যব্যধি ও সেসবের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে লেখালেখি করতে পছন্দ করি।

একটি প্রত্যুত্তর করুন

Your email address will not be published.